কুরআনের বৈজ্ঞানিক দিক
১. মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিগ ব্যাং (The Big Bang)
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا
অর্থ: “যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম?” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩০)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সৃষ্টিজগতের সূচনা সম্পর্কে সাহাবীদের ধারণা দিয়েছিলেন।
كَانَ اللَّهُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ قَبْلَهُ، وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ
অর্থ: “আল্লাহ ছিলেন, তখন তিনি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আর তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩১৯১)
২. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ (Expanding Universe)
وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
অর্থ: “আমি নিজ ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই এর সম্প্রসারণকারী।” (সূরা আজ-জারিয়াত, আয়াত: ৪৭)
৩. মাতৃগর্ভে মানব ভ্রুণের বিকাশ (Embryology)
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا
অর্থ: “পরে আমি বীর্যবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করি, এরপর মাংসপিণ্ডকে অস্থিপঞ্জরে পরিবর্তন করি এবং অস্থিপঞ্জরকে মাংস দ্বারা আবৃত করি।” (সূরা আল-মু’মিনুন, আয়াত: ১৪)
إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَةً، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির সৃষ্টির উপাদান মায়ের পেটে ৪০ দিন বীর্য আকারে জমা থাকে। তারপর তা সমপরিমাণ সময় জমাট রক্তে পরিণত হয়। তারপর সমপরিমাণ সময় মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়…” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২০৮)
৪. পর্বতের ভূমিকা ও ভূত্বকের ভারসাম্য
وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ
অর্থ: “এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত (কেঁপে ওঠা) না হয়।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১৫)
৫. দুই সমুদ্রের মিলন ও অদৃশ্য পর্দা
পবিত্র কুরআনের আয়াত:
مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ * بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ
অর্থ: “তিনি পাশাপাশি দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।” (সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১৯-২০)
ইসলামিক স্কলারদের উক্তি
-
ড. জাকির নায়েক বলেন:
“আধুনিক বিজ্ঞান যেসব তথ্য আজ থেকে ৫০ বা ১০০ বছর আগে আবিষ্কার করেছে, পবিত্র কুরআন তা ১৪০০ বছর আগেই স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে।
-
এটা প্রমাণ করে যে কুরআন কোনো মানুষের তৈরি বই নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর বাণী।”
-
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কিথ এল. মুর (যিনি কুরআনের ভ্রূণতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছিলেন) বলেন:
“সপ্তম শতাব্দীতে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কাছে এই সমস্ত তথ্যের জ্ঞান থাকা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। এগুলো নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী বা ঐশ্বরিক বাণী ছিল।”
-
ড. মরিস বুকাইলি (তাঁর বিখ্যাত ‘বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান’ বইয়ে লিখেছেন):
“কুরআনে এমন একটি আয়াতও নেই যা আধুনিক বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক বা অমিল। কোনো মানুষের পক্ষে সেই যুগে এত নির্ভুল বিজ্ঞানসম্মত কথা বলা অসম্ভব ছিল।”