ফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাত

imagesফরজ নামাজের পর সম্মিলিত মোনাজাত

বরেণ্য মুফতিদের মতামত
মুফতি ইমরান মাযহারী
খতিব, লালবাগ শাহী মসজিদ, ঢাকা
নামাজের পর সম্মিলিতভাবে দোয়া করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আয়াত বা হাদিস নেই। তবে মৌলিকভাবে দোয়ার ফজিলত, গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। এমনকি নামাজের পর দোয়া করার ব্যাপারেও সহিহ হাদিস রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি দোয়া করতে চাও তাহলে ফরজ নামাজের পর করো’ (তিরমিজি : ২/১৮৭)।
আর নামাজের পর সম্মিলিত দোয়া করার ব্যাপারে যেহেতু কোনো নিষেধ নেই, তাই উল্লিখিত হাদিসের আলোকে বলা যায় নামাজের পর সম্মিলিত দোয়া করা মুস্তাহাব বা উত্তম।

মুফতি হিফজুর রহমান
প্রধান মুফতি, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
বর্তমান প্রচলিত ফরজ নামাজ বা জুমার নামাজের পর ইমাম সাহেব মুসল্লিদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে যে মোনাজাত করে থাকে তা যদি জরুরি মনে না করা হয় এবং জামাতে শরিক যে কোনো মুসল্লি তা না করার দরুন তাকে তিরস্কার ও কটাক্ষ না করা হয় এবং এভাবে মোনাজাতের দরুন কোনো মুসল্লির নামাজে সমস্যা না হয় তাহলে তা বৈধ। শুধু বৈধ নয় উত্তমও। কারণ আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হলো কোন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, ফরজ নামাজের পর এবং শেষ রাতের দোয়া। (তিরমিজি : ২/১৮৭)। রেওয়ায়েত দ্বারা বোঝা যায়, নামাজের পর দোয়া করা মুস্তাহাব বা উত্তম। বাকি হাদিসে যেহেতু সম্মিলিত বা একাকীর কথা উল্লেখ নেই, তাই যে কোনোভাবে দোয়া পড়া যাবে। তবে আগে বর্ণিত শর্তগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি শর্ত না থাকলে হবে।
মুফতি সানাউল্লাহ
প্রধান মুফতি, জামিয়া মাহমুদিয়া, বরিশাল
হাদিস বর্ণনাকারীরা রাসূলুল্লাহর (সা.) সব কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা এবং অবস্থাগুলো খুবই গুরুত্বসহ বর্ণনা করেছেন। এমনকি যেগুলো শরিয়তের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, শুধু মানুষ অভ্যাস হিসেবে করে থাকে বা হঠাৎ প্রকাশ হয়ে থাকে যেমন আকাশের দিকে দৃষ্টি দিয়ে হেঁটেছেন, বা কথা বলার সময় লাঠি দিয়ে মাটিতে দাগ দিয়েছেন, এসব কাজ-কর্মগুলোও বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন।

রাসূল (সা.) মদিনা শরিফে ১০ বছর পর্যন্ত ইমাম হয়ে নামাজ পড়িয়েছেন। এ সময় তিনি সাহাবিদের নিয়ে ফরজ নামাজের পর সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে দোয়া করেছেনÑ এমন কোনো বর্ণনা কোরআনের ছয় সহস্রাধিক আয়াতে কোনো আয়াত, অগণিত হাদিসের কোনো একটি দুর্বল হাদিসে বা ফিকহের গ্রহণযোগ্য কিতাব দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমন কি রাসূলুল্লাহ (সা.) পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদিনের সময়ও এবং যাদের রাসূলুল্লাহ (সা.) অনুসরণীয় বলেছেন তাদের কোনো যুগে ফরজ নামাজের পরে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে দোয়া করেছেনÑ এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং হাত উঠিয়ে দোয়া করা জায়েজ হলেও সুন্নতের পরিপন্থী। আর জোর দিয়ে করলে তা বেদাত হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.