রমজানের আহবান।
আসসালামু য়ালাইকুম।
পবিত্র মাহে রমজান আসন্ন। ইনশ আল্লাহ যদি আজ ৬ মে ,২০১৯, শাবান ২৯, ১৪৪০ হিজরী, সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল মঙ্গলবার ০৭ মে তারিখ থেকে রমজান মাসের ১ম রোজা আরম্ভ হবে। আল্লাহ পাক যেন আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সিয়াম সাধনা করার তৌফিক দিন। আমীন।।
পবিত্র কোরানের ২য় নম্বর সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ঘোষনা দেন যে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [٢:١٨٣]
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [٢:١٨٤]
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ [٢:١٨٥]
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।(২-১৮৩)
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।(২-১৮৪)
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।(২-১৮৫)
উপরোক্ত আয়াতগুলো পড়ে অনুধাবন করলে বুঝা যায়, আল্লাহ পাক বান্দাদের কষ্ট দিতে চান না, তিনি অতি মহান,অতি দয়ালু।
উপরোক্ত ১৮৩ আয়াতে আল্লাহ পাক একটি শব্দের উপর জোর দিয়েছেন, তা হলো – “ পরহেজগারী” । আমরা সারা মাস রোজা রইলাম, উপোষ থাকলাম, নামাজ পড়লাম, রাতভর ইবাদত করলাম কিন্তু পরহেজগারী অর্জন করতে পারলাম না বা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চিন্তা আমাদের অন্তরে নাই তাহলে আমাদের এই রোজা আমাদের জন্য কি নাজাতের অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমার উপলক্ষ হবে ?।।
আবার ২য় নম্বর সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে এই পবিত্র রমজান মাসেই আল্লাহ পাক সমগ্র মানবজাতির জন্য জীবন বিধান-পবিত্র কোরান নাযিল করার কথা বলেছেন যাতে আমদের ইহকাল ও পরকালের তথা অনন্ত জীবনের দিক নির্দেশনা অতি সহজ ও পরিস্কার ভাবে বিবৃত করা হয়েছে।
এই কোরান কে মানবজাতির কাছে একমাত্র মুক্তির ও সকল সমস্যার সমাধান ও উপায় হিসাবে বুজানোর জন্য আল্লাহ পাক পবিত্র কোরানের বিভিন্ন জায়গায় কতভাবে ব্যক্ত করেছেন। যেমনঃ
২ নং সূরা বাকারার এর ২ নং আয়াতে বলেছেনঃ
ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ [٢:٢]
৩৯ নং সূরা যুমর এর ২৭ নং আয়াতে বলেছেনঃ
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ [٣٩:٢٧]
আমি এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব দৃষ্টান্তই বর্ণনা করেছি, যাতে তারা অনুধাবন করে;
১৮ নং সূরা কাহফ এর ৫৪ নং আয়াতে বলেছেনঃ
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍ ۚ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا [١٨:٥٤]
নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।
৩০ নং সূরা রুম এর ৫৮ নং আয়াতে বলেছেনঃ
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا الْقُرْآنِ مِن كُلِّ مَثَلٍ ۚ وَلَئِن جِئْتَهُم بِآيَةٍ لَّيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُبْطِلُونَ [٣٠:٥٨]
আমি এই কোরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। আপনি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবে কাফেররা অবশ্যই বলবে, তোমরা সবাই মিথ্যাপন্থী।
৪৭ নং সূরা মুহাম্মদ এর২৪ নং আয়াতে বলেছেনঃ
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا [٤٧:٢٤]
তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
৫৪ নং সূরা কামার এর ১৭ নং আয়াতে বলেছেনঃ
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ [٥٤:١٧]
আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
৮ নং সূরা আনফাল এর ২ নং আয়াতে বলেছেনঃ
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ [٨:٢]
যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, (কোরানের আয়াত) তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।
সুতরাং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা উপলক্ষে আমাদের এই প্রতিজ্ঞা থাকা উচিত, যেন পবিত্র কোরান কে আমরা শুধু তেলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থ সহ বুঝে পড়ার ও আল্লাহ পাকের আদেশ নিষেধ আর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়ে ইহকাল ও পরকালের মুক্তির উপায় লাভ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক জ্ঞান অর্জন ও আমল করার তৌফিক দিন। আমীন।।
পবিত্র রমজান মাস সম্পর্কে একটী প্রসিদ্ব হাদীসঃ
মালেক বিন হুয়াইরিস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মিম্বরে উঠেন, প্রথম সিঁড়িতে উঠে আমীন বলেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, আমীন। অতঃপর তৃতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, আমীন। অতঃপর বললেন, আমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)! যে ব্যক্তি রামাযান মাসে উপনীত হওয়ার পরও তার জীবনের গোনাহকে ক্ষমা করাতে পারল না, আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূর করুন। আমি তা শুনে বললাম, আমীন। তারপর বলেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল, অথচ (তাদের সাথে সদ্ব্যহার না করে) জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তা‘আলা তাকেও তাঁর রহমত থেকে দূর করুন। আমি বললাম, আমীন। অতঃপর বললেন, যে ব্যক্তির সামনে আপনার নাম উচ্চারিত হওয়ার পর আপনার উপর দরূদ পাঠ করল না, সেও আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে দূর হোক। আমিও তাতে বললাম, আমীন’। ছহীহ ইবনু হিববান, ২য় খন্ড, পৃঃ ৩০৮, হা/৪১০, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৩০৪, হা/৯০৯ ছহীহ আত-তারগীব হা/৯৯৬
রমজানের মাসালা মাসায়েলঃ
১। রোযার নিয়ত করা ফরজ। নিয়ত করতে হবে প্রতিদিন রাতের বেলায়। “যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোযার নিয়ত করেনি তার রোযা বিশুদ্ধ হবে না”-তিরমিযী-হাদীস নং-৭৩০
২। সাহরী খাওয়া মোস্তাহাব। “ আমাদের এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরী খাওয়া” –মুসলিম-হাদীস নং-২৬০
৩। ইফতারী যথাসময়ে করা মোস্তাহাব। “ যে সকল মানুষ যথাসময়ে ইফতার করবে তারা সর্বদাই কল্যাণের মধ্যে থাকবে।–বুখারী হাদীস নং-১৮৫৬
৪।রোজা অবস্থায় গড়্গড়ার সাথে কুলি ও নাকের ভিতর পানি পৌছানো মকরুহ।
৫। রোজা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত বমি করলে রোযার ক্ষতি হয় না।
৬। প্রতি রমাদান মাসে প্রত্যেক সুস্থ, বয়ঃপ্রাপ্ত মুকিম ও সক্ষম মুসলমান নর-নারীর প্রতি সুব্হি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা ফরয বা অবশ্য কর্তব্য।–আল-কোরান।
৭। সত্যবাদী, ন্যায় ও কল্যাণকর চরিত্রবানরূপে গড়ে ওঠাই রোজার অন্যতম লক্ষ্য : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা এবং মিথ্যা কাজও আচরণ থেকে বিরত হলো না, তার ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।’’ (সহীহ আল বুখারী)।
৮। রোজার ফরয তিনটি : ক. নিয়্যত করা; খ. সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা; গ. যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা।
৯। রোজা ফরয হবার শর্ত চারটি : ক. মুসলমান হওয়া; খ. বালেগা হওয়া গ. অক্ষম না হওয়া; ঘ. মহিলাদের হায়েয নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘‘তিন ব্যক্তির উপর থেকে দ্বীনি ‘ইবাদতের বাধ্যবাধকতা রহিত করা হয়েছে; পাগল ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত, নিদ্রিত ব্যক্তি চেতনা-জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত ও না বালেগ কিশোর, বালেগ না হওয়া পর্যন্ত’’ (ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, হাদীস সহীহ) অন্য এক হাদীসে পুরুষের তুলনায় নারীদের ‘দ্বীনের অসম্পর্ণতা’ সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘‘কেননা মহিলাদের হায়েয ও নেফাসের সময় নামায ও রোজা পালন করতে হয় না।’’ (সহীহ আল-বুখারী)।
১০।যে সকল কারণে রোযা মাকরূহ হয়, রোযা ভঙ্গ হয় না : (ক) অযুর সময় গড়গড়ার সাথে কুলি করা ও নাকের ভিতরে পানি পৌঁছানো (খ) যৌন উত্তেজনার সাথে চুম্বন করা। (গ) স্ত্রী প্রতি যৌন উত্তেজনার সাথে নজর জারি রাখা। (ঘ) সঙ্গম বিষয়ক চিন্তা কারা, (ঙ) স্ত্রীর সাথে উত্তেজনাবশত শরীর দ্বারা স্পর্শ করা বা জড়াজড়ি করা। (চ) দাঁত দ্বারা কোন কিছু এমনভাবে চিবানো যাতে তার কিছু অংশ কণ্ঠনালীর ভিতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। (ছ) খাদ্যদ্রব্য বা কোন কিছুর স্বাদ গ্রহণ করা। (জ) অযু ছাড়া কুলি করা অথবা বিনা প্রয়োজনে মুখে পানি দেয়া। (ঝ) শরীর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় শিঙা লাগানো। (ঞ) ইচ্ছাকৃত মুখে থু থু জমা করে গিলে ফেলা। (ট) মাজন, পেস্ট অথবা কয়লা চিবিয়ে দাঁত ব্রাশ করা। (ঠ) রোযা রেখে ঝগড়া, গালাগালি, গীবত ও পরনিন্দা করা। (ড) ইচ্ছাকৃত মুখের ভিতর ধুয়া অথবা ধুলাবালি গ্রহণ করা।
১১। যে সকল কারণে রোযার কোন ক্ষতি হয় না : (ক) রোযাদার ভুলবশত খানাপিনা করলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রোযাদার ভুলে পানাহার করলে সে যেন তার ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করে, আসলে আল্লাহই তাকে পানাহার করালেন।’ (সহীহ আল-বুখারী ও মুসলিম)। অন্য এক হাদীসে এসেছে, ‘যদি কেউ রামাদানে দিনের বেলায় ভুলে পানাহার করে তার উক্ত রোযার কাযা অথবা কাফ্ফারার প্রয়োজন নেই। (দারুকুতনী, হাদীস সহীহ)। (খ) রোযাদারের স্বপ্নদোষ হলে এবং গোসল ফরয হলেও কোন দোষ নেই। (গ) অধিক থুথু জমা হয়ে কণ্ঠনালীর ভিতরে গেলেও কোন ক্ষতি নেই। (ঘ) চোখে সুরমা লাগানো, শরীরে ও মাথায় তেল ব্যবহার করা অথবা খুশবু আতর লাগানোও জায়েয। (ঙ) বমি করলে যদি তার কিছু পেটে ফিরে না যায়। (চ) অনিচ্ছাকৃতভাবে মশা, মাছি গিলে ফেললে। (ছ) অনিচ্ছাকৃতভাবে পথের ধুলা, কারখানার ধোয়া ও চুলার ধোয়া মুখের ও নাকের ভিতর ঢুকে গেলে। (জ) গোসল ফরয অবস্থায় সকাল হওয়া, এমনকি দিন অতিক্রম করলেও। (ঝ) মেছওয়াক দ্বারা দাঁত ব্রাশ করলেও কোন ক্ষতি নেই। অধিক গরম লাঘবের জন্য ভিজা কাপড় গায়ে দেয়াও জায়েয।