“তসবীহ-মালা”
![]()
“তসবীহ গুনতে তসবীহ-মালা ব্যবহার সুন্নাহর পরিপন্থী”
ইসলামে তসবীহ-মালা ব্যবহারের বৈধতা এবং তা ব্যবহার করা কি বিদআত?
তসবীহ-মালা কী?
তসবীহ বা যপমালা হল একটি প্রথাগত ধর্মীয় উপাসনার বস্তু। তসবীহ আরবী শব্দ যাহা ‘তাজবীহ’ থেকে এসেছে (تارجاالخارجي )। সাধরণত একটা সুতার মধ্যে অনেকগুলো বোতাম বা গোটা গেঁথে তাসবীহ তৈরি হয়। অতীতে প্রাকৃতিক উপাদান বা বিভিন্ন গাছের ফল বা বীজ দিয়ে তাসবীহ তৈরি হলেও অধুনা প্লাস্টিক, পিতল, সংকর ধাতু ইত্যাদির সমন্বয়েও তসবীহ-মালা তৈরি হতে দেখা যায়।
তসবীহ-মালা ব্যবহার করা কি বিদআত?
তসবীহ-মালা ব্যবহারকে বিদআত বলা যায় না। কারন, উহা ইবাদতের একটি অসীলা। আর ইবাদতের অসীলাকে বিদআত বলা যায় না। তবে, তসবীহ-মালা ব্যবহার সুন্নাহর পরিপন্থী। যেহেতু, মহানবী (সাঃ) উহা ব্যবহার না করে তার ডান হাতের আংগুল ব্যবহার করে তসবীহ গুনেছেন। সুতরাং, তসবীহ-মালা ব্যবহার না করাই উত্তম।
মুহাম্মদ(সাঃ) ডান হাতের আংগুল দ্বারা তসবিহ করেছেন বা গুনেছেন এবং বলেছেনঃ “আংগুলগুলোকে তার হাতের দ্বারা কৃত কর্মের জন্য জিজ্ঞাসা করা হবে এবং কথা বলানো হবে”।
***আহমাদঃ ৬/৩৭১, আবু দাউদঃ ১৫০১,, তিরমিযীঃ ৩৫৮৩।
এই হাদিসের দ্বারা প্রমান হয় যে, কিয়ামতের দিন আংগুলগুলো তসবিহ পড়ার জন্য সাক্ষ্য দিবে; তসবিহ-মালা সাক্ষ্য দিবে না।
আব্দুল্লাহ বিন আমর(রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিসঃ
Abdullah bin ‘Amr (RA) said: “I saw the Prophet (SAW) counting the glorification of his Lord on his right hand.”
Reference: Abu Dawud with a different wording 2/81, and At-Tirmidhi: 5/521. See also Al-Albani, Sahihul-Jami’As-Saghir 4/271 (no. 4865).
Reference: Qur’an Aal-‘Imran 3: 190-200; Al-Bukhari, cf. Al-Asqalani, Fathul-Bari 8/237; Muslim 1/530.
“Tasbih”
The term tasbih is an irregular derivation from subhan, which is the first word of the constitutive sentence of the first third of the canonical form (see below) of tasbih. The word literally means, as a verb, “to travel swiftly” and as a noun, “duties” or “occupation.” However, in the devotional context tasbih means to say, Subhana Allah, which is often used in the Qur’an with the preposition ‘an (عن) with the meaning, “‘God is [de]void’ [of what they (polytheists) attribute to Him]”, for example (Al-Tawba: 31, Al-Zumar 67, et al.). Without this preposition it means something like “Glory be to God.”
“ফাতেমা(রাঃ) -এর তসবীহ”
Canonical form “Tasbih of Fatima”
In order:
1. Subhan’Allah (سبحان الله) (Glory be to Allah) – repeated 33 times.
2. Alhamdulillah (الحمد لله) (Praise be to Allah) – repeated 33 times.
3. Allahu Akbar (الله أكبر) (Allah is the Greatest) – repeated 34 times.
আবু হুরায়রা(রাঃ) বর্ণিত হাদিসঃ
Narrated Abu Huraira: Some poor people came to the Prophet and said, “The wealthy people will get higher grades and will have permanent enjoyment and they pray like us and fast as we do. They have more money by which they perform the Hajj, and ‘Umra; fight and struggle in Allah’s Cause and give in charity.” The Prophet said, “Shall I not tell you a thing upon which if you acted you would catch up with those who have surpassed you? Nobody would overtake you and you would be better than the people amongst whom you live except those who would do the same. Say “Sub-han-al-lah”, “Alhamdu-lillah” and “Allahu Akbar” thirty three times each after every (compulsory) prayer.” We differed and some of us said that we should say, “Subhan-al-lah” thirty three times and “Alhamdu lillah” thirty three times and “Allahu Akbar” thirty four times. I went to the Prophet who said, “Say, “Subhan-al-lah” and “Alhamdu lillah” and “Allahu Akbar” all together for thirty three times.” (Book #12, Hadith #804)
নিম্ন লিখিত কারনে তসবিহ-মালা ব্যবহার সুন্নাহ’র পরিপন্থীঃ-
১) মুহাম্মদ(সাঃ) যেহেতু ডান হাতের আংগুল দিয়ে তসবিহ গণনা করতেন তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে তসবিহ-মালা ব্যবহার সুন্নাহর পরিপন্থী।
২) সাহাবাগন, তাবেঈ-তাবেঈনগন ব্যবহার করেছেন বলে সহিহভাবে কোন প্রমান পাওয়া যায় না।
৩) তসবীহ-মালা ব্যবহারে লোক দেখানি বা ‘রিয়া’ হওয়ার আশংকা থাকে। কারন, রং বেরং-এর মালা ও তার খট খট শব্দ মানুষের দৃষ্টি ও মন আকৃষ্ট করতে পারে এবং আমলে ‘রিয়া’ ঢুকলে সওয়াবের যায়গায় শিরক ঘটে যাবে।
৪) তসবীহ-মালা ব্যবহার করে তসবীহ পাঠ করলে মনযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে; কিন্তু আংগুল দিয়ে গুনলে তা হয় না।
৫) তসবীহ-মালার চেয়ে আংগুল দিয়ে গণনা করাই শরীয়ত সম্মত। [ ইবনে উসাইমিন]
৬) তসবীহ-মালা ব্যবহারকারীর অন্তরে উদাস ভাব আসে বা হয়ে থাকে। যেহেতু গোনা মালা তো গাথাই থাকে। তাই গননায় খেয়াল থাকে না এবং তসবীহতেও খেয়াল থাকে না। [ইবনে বায, ইবনে উসাইমিন]
৭) তসবীহ-মালা ব্যবহারকারীর ‘রিয়া’ বা লোক দেখানোর বা প্রশংসা কুড়ানোর ইচ্ছে থাকতে পারে অনেক – যেন লোকেরা তার প্রশংসাই করবে। [ইবনে বায, ইবনে উসাইমিন]
৮) অনেক লোকের ধারনা, আংগুল দ্বারা গণনা করলে সংখ্যায় ভুল হতে পারে। তসবীহ-মালা দ্বারা গণনা করলে ভুল হবে না। কিন্তু শায়খগণ বলেনঃ গণনায় ভুল হলে সমস্যা কী? কারন, নিয়ত যখন ঠিক থাকে, তখন সওয়াব তো কমে যাবে না।[ইবনে বায, ইবনে উসাইমিন]
কারন, বিশ্বনবী(সাঃ) বলেছেনঃ হাতের আংগুলগুলো কিয়ামতের দিন কথা বলে তসবীহকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।
***আহমাদঃ ৬/৩৭১, আবু দাউদঃ ১৫০১,, তিরমিযীঃ ৩৫৮৩।
অতএব, তসবীহ-মালা ব্যবহার করার চেয়ে হাতের আংগুল ব্যবহার করে তসবীহ পাঠ করাই উত্তম, উত্তম, উত্তম।
তাই আসুন, আমরা মুহাম্মদ(সাঃ)-এর সুন্নাহ’কে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরি।
মন্তব্যঃ
মধ্যযুগ থেকেই আরবরা এই বস্তুটি ধমীর্য় উপাসনায় ব্যবহার করতো । মুসলমানরা এটি ব্যবহার করে এবং ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বাণীবাহক (নবী) ও তাঁদের সহচররাও (সাহাবি) এর ব্যবহার করতেন। একটি তাসবীহতে ১০০টি আলাদা আলাদা বোতাম বা গোটা থাকে, যে বোতামগুলো গুণে গুণে ব্যক্তি ঈশ্বরের (আল্লাহ) নাম যপ করেন। তবে তাসবীহতে ১০০’রও অধিক অথবা এর কম বোতামও থাকতে পারে তবে বোতামগুলো ১-১০০ পর্যন্ত পড়তে হয়। এর মধ্যে প্রতি ৩৩টি বোতাম ধরার পরে একবার থামতে হয় এবং বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম বা পরম কুরুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ’র নামে বলে নিয়ে আবার পড়তে হয়।
*হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের নাম যপ করতে ‘যপমালা’ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বলা বাহুল্য, বিজাতীয় অনুকরনে এমন কিছু করা বৈধ নয়। যেহেতু বিশ্বনবী(সাঃ) বলেছেনঃ
“যারা বা যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরন করবে, তারা সেই দলভুক্ত হবে”।
*** আবু দাউদ, ইবনে বায(রঃ)।
———-সংগৃহীত।